Image

ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে তার ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঘাতকরা হামলা করতে আসার পর অনেককে ফোন করে নিজের বিপদের কথা জানিয়ে তিনি তাদের বাইরে বের হয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যাদের সুবিধা দিয়েছেন তাদের কেউ এগিয়ে আসেননি। গত শুক্রবার চ্যানেল আই-এর তৃতীয় মাত্রা টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুুদ্ধের পর যাদের মেজর থেকে মেজর জেনারেল বানিয়েছিলেন, সহকারী সচিব থেকে সচিব করেছিলেন, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান বানিয়েছিলেন তাদের ফোন করে সহযোগিতা চাওয়ার পরও বঙ্গবন্ধুর পাশে কেউ আসেননি। সবাই ঘরে নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন। সেদিন রাজনীতিকরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিলে ঘাতকরা উর্দি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো। যে বঙ্গবন্ধু রক্ষীবাহিনী গঠন করলেন তার মৃত্যুর সময় কেউ হামলাকারীদের ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি। যখন ৩২ নম্বরে ঘাতকরা হামলা করল বঙ্গবন্ধু সেনা প্রধান, নৌ প্রধান, বিমান প্রধান, রক্ষী বাহিনীর প্রধানসহ রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের ফোন করে বললেন, আমি আক্রান্ত হয়েছি তোমরা বাইরে নেমে আস। কেউ এলো না। যদি সেদিন তারা বাইরে বের হয়ে আসতেন ঘাতকরা ৩২ নম্বর থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো। তারা বঙ্গবন্ধুকে কিছুই করতে পারত না।  

বলতে পারেন আমি কী করেছি। আমি ’৭৫ সালে এমপি ছিলাম না। কোনো সংগঠন আমার দায়িত্বে ছিল না। আন্ডারগ্রাউন্ডে রাজনীতি করে আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হাজার হাজার তরুণকে মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে এসেছি। ’৭৫ সালেও আমার নেতৃত্বে কোনো সংগঠন থাকলে অবশ্যই আমি যুদ্ধে নেমে এ ঘটনা ঘটতে দিতাম না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা তুরুপের তাস হিসেবে আটক রেখেছিল। পাকিস্তানিরা ভেবে রেখেছিল যদি তারা এই যুদ্ধে জিতে যায় তাহলে তাকে হত্যা করবে। আর যদি হেরে যায় তাহলে তাদের ৯৩ হাজার সেনাসদস্য ফেরত নেওয়ার জন্য তুরুপের তাস প্রয়োজন। পরবর্তীতে তা-ই হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের ফেরত নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পরাজয় হলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করত পাকিস্তানিরা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের ফিরে আসার পর একটি বড় ভুল করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে রক্ষীবাহিনী গঠন করে। পৃথিবীর কোথাও এটা করা হয় না। আজাদ হিন্দ ফৌজের কোনো সদস্যকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়নি। এমনকি পূর্ব পাকিস্তানে আত্মসমর্পণ করা নিয়াজিসহ ৯৩ হাজারের কাউকেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।  ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জনাব সিদ্দিকী বলেন, আমরা যখন আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলাম তখন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গেলে তার পত্নী আমাদের সন্তানের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধুও তার সব কর্মীকে নিজের সন্তানের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। সবার খোঁজখবর রাখতেন। এই বাড়িতে আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অন্যান্য দলের নেতা, কর্মী, সরকারি কর্মকর্তাদেরও ছিল অবাধ যাতায়াত। মুক্তিযুদ্ধের পরও আমি এই বাড়িতে জিয়াউর রহমানকে অনেকবার দেখেছি বসে থাকতে। বঙ্গবন্ধুকে অনেক অনুরোধ করা হয়েছে তিনি যেন ৩২ নম্বর ছেড়ে বঙ্গভবনে থাকেন। তিনি শুনলেন না। তিনি মানুষের সান্নিধ্যে থাকার জন্য নিজের বাড়িতেই থাকতেন। এই ঔদার্য তার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনল। তিনি বলেন, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনি মোশতাক সরকারের শপথ অনুষ্ঠান যিনি পরিচালনা করেছেন সেই এইচ টি ইমাম এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা।  

’৯৬ সালে হাসিনা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, খুনি মোশতাকের সহযোগী কাউকে ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করবেন না। কিন্তু পরে এ কে খন্দকারকে কেন নিলেন, এইচ টি ইমামকে কেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হলো?

- See more at: http://www.bd-pratidin.com/special/2015/08/16/100273#sthash.pcotoGK8.dpuf

Register for comment

Comments

Latest Episode Videos

Tritiyo Matra

Follow us on Facebook