Image

নিঃস্বার্থ আন্দোলন কখনো বিফলে যায় না। শাহবাগের এ আন্দোলন রাজনীতিবিদদের জন্যও একটি মেসেজ। তরুণ প্রজন্ম আজ ক্ষমতার জন্য রাজপথে নামেনি। এ আন্দোলন সরকার বা কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ যার জন্য ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে, পাঁচ লাখ মা-বোন লাঞ্ছিত হয়েছে, পিতা পুত্রহারা, স্ত্রী স্বামীহারা হয়েছে তা সমুন্নত রাখতে এ আন্দোলন।তাদের একটিই দাবি যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি। দেশকে শত্রুমুক্ত করে একটা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য রাজীব জীবন দিয়েছে, শান্ত মারা গেল। আমি মনে করি এ আন্দোলন বৃথা যাবে না। শুক্রবার চ্যানেল আইয়ের টকশো 'তৃতীয় মাত্রা' অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ মতিউরের পিতা আজহার আলী মলি্লক।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রজন্ম চত্বরের এ আন্দোলন রাজনীতিবিদদের জন্যও একটি মেসেজ। তরুণ প্রজন্ম কখনো অন্যায়কে সমর্থন করে না। অসত্যের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়াবেই। '৭১-এর গণহত্যা তরুণ প্রজন্ম মানতে পারেনি। তাই তারা মাঠে নেমেছে। ওইখানে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে বক্তৃতা দিতে না দেওয়ার অর্থ বুঝতে হবে। আজ আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই বলা যায়। সেটা থাকলে এ দায়িত্বটা তারাই নিত। নেই বলেই ডা. ইমরানের মতো প্রজন্মের প্রতিনিধি জেগে উঠেছে। আসলে রাজনীতি এখন রাজনীবিদদের হাতে নেই। ডাকসুসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলতাম নেতা তৈরির কারখানা। সেখানেই নির্বাচন নেই। তরুণ প্রজন্ম আন্দোলনে অনেক রাজনৈতিক ইস্যু টেনে না এনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাত্রাটা এভাবেই করতে হয়। অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে এ আন্দোলন না মিললেও এটি সমগ্র জাতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এ নেতা বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। মতিউর, মকবুল, রুস্তুম, আসাদ জীবন না দিলে গণঅভ্যুত্থান হতো না। আইয়ুবের পতন হতো না। বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পেতেন না। আজ হয়তো স্বাধীন বাংলাদেশ দেখতে পেতাম না। তাদের রক্তের সোপান পেরিয়েই আমরা '৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই বাংলাদেশে আজ সাম্প্রদায়িকতার বীজ রোপিত হয়েছে। এ বীজ উপড়ে ফেলতে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন জয়ী হবেই। তারা ভাগ্যবান আজকের আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের দোসররা ছাড়া পুরো বাংলাদেশ তাদের পক্ষে। আন্দোলন দিয়ে সরকার অন্য ইস্যুগুলোকে ঢাকার চেষ্টা করছে কি না, সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই প্রচার স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বনকারীরাই করছে। জামায়াত-শিবির এটা পছন্দ করছে না। তারা ফেসবুক থেকে শুরু করে যে শহীদ হয়েছে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বলছে রাজীবের জানাজা ঠিক হয়নি। কেউ অজু করেছে, কেউ করেনি। ঊনসত্তরের ২১ জানুয়ারি পল্টনে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে গায়েবি জানাজা পড়েছি। কেউ অজু করেছে, কেউ করেনি। তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলেনি। সেদিনও এ রকম জামায়াতি অবস্থা ছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে কোনো দল এ আন্দোলনে আদর্শের দিক থেকে লাভবান হবে এ কথা সত্য। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে তো সবাই যার যার মতো করেই ভোট দেবে।

Register for comment

Comments

Latest Episode Videos

Tritiyo Matra

Follow us on Facebook